NEWS PUBLISHED IN BARTAMAN PATRIKA - KOLKATA SAHARTALI - IN WEST BENGAL - 26-02-2017. ASHOK KUMAR SINGH, ADVOCATE.
|
NEWS PUBLISHED IN BARTAMAN PATRIKA - KOLKATA SAHARTALI - IN WEST BENGAL - 26-02-2017.
ASHOK KUMAR SINGH, ADVOCATE.
|
||
|
কলকাতা, রবিবার ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, ১৪ ফাল্গুন ১৪২৩
|
||
|
|
||
এই শহরে ৮ বছর আগের ঘটনা
চিকিৎসায় অবহেলায় মৃত্যুর অভিযোগ এখনও তাড়িয়ে বেড়ায় ২ পরিবারকে
চিকিৎসায় অবহেলায় মৃত্যুর অভিযোগ এখনও তাড়িয়ে বেড়ায় ২ পরিবারকে
সুকান্ত বসু, কলকাতা: বাইপাস সংলগ্ন একটি বেসরকারি হাসপাতালের ‘অমানবিকতা’য় শুক্রবার মৃত্যু হয়েছিল ডানকুনির বাসিন্দা ৩০ বছরের সঞ্জয় রায়ের। এই অভিযোগ তুলে যখন বিভিন্ন মহল রাজ্যজুড়ে সরব, তখন আট বছর আগে এই শহরেই তিনটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার গাফিলতিতে মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছিল। মারা গিয়েছিলেন এক কলেজ ছাত্রী এবং ছ’ বছরের এক শিশুপুত্র। দু’টি পরিবারই আজও ন্যায়বিচার না পেয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে প্রশাসন এবং আদালতের দরজায়। কিন্তু কোনও মহল থেকেই সাড়া না পেয়ে দু’টি পরিবারই আজ হতাশ। মৃত প্রথম বর্ষের ছাত্রী অদিতি দাস এবং ছ’ বছরের শিশুপুত্র জয়দীপ্ত চক্রবর্তীর বাড়ির লোকজনের বক্তব্য, জানি না আর কতজন সঞ্জয়কে বেসরকারি হাসপাতালের খামখেয়ালিপনায় মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়তে হবে।
কলকাতার জয়পুরিয়া কলেজের বাংলা অনার্সের প্রথম বর্ষের ছাত্রী ছিল জয়িতা। ২০০৮ সালের ৪ মার্চ উত্তর কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে গাইনি’র সমস্যা নিয়ে ভরতি হয়েছিলেন তিনি। ৫ মার্চ তাঁর অস্ত্রোপচার হয়। ১০ মার্চ উত্তর কলকাতার রামকালি মুখার্জি লেনের ওই কলেজ ছাত্রী মারা যান। ওই ঘটনায় ওই ছাত্রীর বাবা পেশায় শিক্ষক সুজিত দাস চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ এনে সংশ্লিষ্ট বেসরকারি হাসপাতালের দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। পরে আদালতে ওই দুই চিকিৎসক আত্মসমর্পণ করে জামিন নেন। তদন্ত শেষে পুলিশ আদালতে যে রিপোর্ট পেশ করে, তা সন্তোষজনক নয় বলে ফের ওই শিক্ষক আদালতের দ্বারস্থ হন। সেখানে বিচারক নতুন করে ফের ওই তদন্তের নির্দেশ দেন। পাশাপাশি আদালতের নির্দেশ ছিল, পূর্বতন তদন্তকারী অফিসারকে সরিয়ে সেখানে নিয়োগ করতে হবে নতুন অফিসার। ওই ঘটনার পর গড়িয়ে গিয়েছে অনেক বছর। কিন্তু কাজ কিছুই এগয়নি। অগত্যা প্রবীণ ওই শিক্ষক ন্যায়বিচার পেতে দ্বারস্থ হন রাজ্য এবং জাতীয় ক্রেতা সুরক্ষা আদালতের। ৭৮ বছরের ওই বৃদ্ধ শিক্ষকের বক্তব্য, জানি না, আর কোনও ফোরাম আছে কি না, যেখানে মেয়ের মৃত্যুর সুবিচার পেতে দরখাস্ত করব। ওই শিক্ষকের স্ত্রী শিখা দাস শনিবার আক্ষেপ করে বলেন, শুক্রবার সকাল থেকে টিভিতে সঞ্জয় রায়ের মৃত্যুর খবর প্রচার এবং তা নিয়ে চারপাশে আলোড়ন সৃষ্টি হওয়ায় চোখের সামনে আমার মেয়ে অদিতির মুখখানা ভেসে উঠল। জলজ্যান্ত মেয়েটা বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় আমাকে প্রণাম করে গেল, অথচ কয়েকদিন পর ও নিথর হয়ে বাড়ি ফিরল। কোনও মায়ের পক্ষে এই দৃশ্য দেখা সম্ভব?
দক্ষিণ ২৪ পরগনার সোনারপুর থানার সাহেবপাড়ার বাসিন্দা জ্যোতিপ্রকাশ চক্রবর্তীর ছ’বছরের শিশুপুত্র ২০০৯ সালে জ্বর নিয়ে ভরতি হয়েছিল কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে। পরে ওই হাসপাতাল থেকে শিশুটিকে নিয়ে যাওয়া হয় অন্য এক বেসরকারি হাসপাতালে। সেখানেই মারা যায় সে। ওই ঘটনায় চিকিৎসার গাফিলতির অভিযোগ তুলে মামলা দায়ের করা হয় সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে। আইনি গেরোয় আটকে রয়েছে সেই মামলা। মামলাকারী জ্যোতিপ্রকাশবাবুর আইনজীবী অশোককুমার সিং শনিবার বলেন, আগামী এপ্রিল মাসে ফের মামলার তারিখ রয়েছে। ফৌজদারি মামলার পাশাপাশি ক্ষতিপূরণের মামলাও দায়ের করা হয়েছে। কবে ন্যায়বিচার মিলবে জানি না। জয়দীপ্তের মা প্রিয়াঙ্কা চক্রবর্তী এদিন একরাশ ক্ষোভ নিয়ে বলেন, আমার ছোট্ট ছেলেকে আমি হারিয়েছি, আমি পাষাণ হয়ে গিয়েছি। সব সময় ছেলের ছবির দিকে তাকিয়ে থাকি। কারওর যেন এভাবে ভুল চিকিৎসায় মৃত্যু না হয়। রাজ্যের প্রাক্তন দায়রা বিচারক তপনকুমার সেনের বক্তব্য, আর পাঁচটা আদালতের মতো যদি এ ক্ষেত্রে পৃথক আদালত তৈরি হয়, তাহলে এই সব মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি ঘটবে।
Comments
Post a Comment